মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
নচিকেতার বিতর্কিত পোস্ট নিয়ে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া!
অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী সম্প্রতি নিজের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি যুদ্ধ নিয়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘আমি যুদ্ধ নিয়ে আতঙ্কিত একটাই কারণে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ। আমি-আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হব।’ তার এই বার্তাটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমও এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে।
কিন্তু নচিকেতার এই মানবিক বার্তাটি প্রত্যাশিত সহানুভূতির পরিবর্তে রীতিমতো সমালোচনার ঢেউ তোলে। স্ট্যাটাসের মন্তব্য ঘর ভরে ওঠে হাজারো কটাক্ষ আর বিরূপ প্রতিক্রিয়ায়। একজন ব্যবহারকারী, এ বিশ্বাস, কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘এসব নচিকেতাদের জন্য আজ পশ্চিমবঙ্গের এই অবস্থা’। সোমনাথ ঘরামী হতাশা প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, ‘এই মানুষটাকে একসময় শিল্পী ও মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করতাম, এখন মানুষ হিসেবে ঘৃণা করি।’ প্রেম কুমার বিশ্বাসেরও তীব্র মন্তব্য, ‘যখন সাধারণ মানুষকে গুলি করে মারলো তখন কোথায় ছিলে?’
এভাবে সমালোচনার তীব্রতা ক্রমশ বাড়তে থাকে, এবং তোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের স্ট্যাটাসটি সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হন নচিকেতা। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় ওঠে, যেখানে একজন শিল্পীর কণ্ঠস্বাধীনতা বনাম সামাজিক সংবেদনশীলতার সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
পাশাপাশি, কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সশস্ত্র সংঘাত পরিস্থিতি এই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে, ভারতের সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে মধ্যরাতে পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মীরের ৯টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে দুই দেশেই হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা উপমহাদেশের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে নচিকেতা আরও স্পষ্ট ভাষায় নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে যত যুদ্ধ হয়েছে, যত হিংসা ছড়িয়েছে সব কয়টি যুদ্ধের নেপথ্যে বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে। সব যুদ্ধ নাকি ‘স্পন্সর’ করা! আমি প্রমাণ করে দেব।’ তার বক্তব্যে উঠে আসে এক তীব্র অভিযোগ—যুদ্ধের মঞ্চে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারালেও, পেছন থেকে মুনাফার খেলা চালায় একশ্রেণির প্রভাবশালী গোষ্ঠী।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদাহরণ টেনে নচিকেতা বলেন, ‘মনে রাখবেন, রকফেলারদের তেল প্রস্তুতকারী সংস্থা সেই সময় জার্মানি এবং ইতালি, দুই দেশকেই পেট্রোল সরবরাহ করেছিল। এই সরবরাহ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন, এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। কিছু ঐতিহাসিকের মতে, এটি শুধুই ব্যবসা।’ তার এই বিশ্লেষণ স্পষ্ট করে দেয়, যুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ফল নয়, বরং এর গভীরে থাকে অর্থনৈতিক স্বার্থের অদৃশ্য সুতো।
শেষ পর্যন্ত নচিকেতার বক্তব্যে ফুটে ওঠে যুদ্ধকে ঘিরে তার গভীর ক্ষোভ ও হতাশা। শিল্পী হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিকের চোখ দিয়েই তিনি যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যগুলো স্পষ্ট করে তোলেন। তবে তার এই খোলামেলা মনোভাবই তাকে তোপের মুখে ফেলেছে। যুদ্ধ আর মানবতা নিয়ে এই বিতর্কের কেন্দ্রে থেকে নচিকেতা যেন নতুন এক জাগরণের বার্তা দিলেন—যেখানে সত্য বলার সাহসই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।